নিজস্ব প্রতিবেদক: আমার বাড়ি নরসিংদী হলেও লকডাউনের জন্য নারায়ণগঞ্জে থেকেও ৪ মাস যাবত বাড়ি যাইনা। ২৪/৫/২০২০ তারিখে রাতে ডিউটি থাকায় একটু খুশিই হয়েছিলাম এই ভেবে যে,আজ ঈদের দিন সকালে কমপক্ষে ঈদের নামাজটা ভালভাবে পড়তে পারব। ২৪/৫/২০২০ রাত ২ :০০ ঘটিকার সময় ডিউটি চলাকালে খবর আসল এক জায়গায় একজনকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।খবর পেয়ে দ্রুত টিম নিয়ে গিয়ে দেখি একজন যুবকের লাশ পরে আছে এক বাড়ির গোসলখানার সামনে। তার সারা শরীরে ৩৬ বার ছুরি দিয়ে আঘাত করা হইয়াছে। যাই হোক এটা হতেই পারে আর লাশ আমাদের জন্য নতুন কিছু না। কিন্তু আজকের দিনটা অন্য দিনের মত ছিলনা। লাশের আইনগত কাজকর্ম (সুরতহাল,ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ) করতে করতে ভোর ৫:০০ টা বেজে গেল। তখনো আশা ছাড়িনি নামাজের। এবার আসামী ধরার পালা।
অন্য থানার এক অফিসারের সহযোগিতায় মুল আসামি ধরে ফেললাম এবং অন্যান্য আসামী ধরতে অভিযান চলছিল। কিন্তু মুল আসামী নিজেও বাজেভাবে injured ছিল। আসামীর অবস্থা আশংকাজনক ছিল। তখন সকাল ৬:০০ টা। তখনো আশা ছিল নামাজতো পরবই। কিন্তু হঠাৎ করে আসামীর অবস্থা আশংকাজনক হলে তাড়াতাড়ি তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে চিকিৎসা দেওয়ার পর নিয়ে আসা হয়। আমার অফিসিয়াল কাজ গোছাইতে কখন যে সকাল ৯:০০ টা বেজে গেল টের পাইনি।
পরবর্তীতে লাশের ময়না তদন্তে উপস্থিতি,এজাহার, মামলা রুজু, আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদ,আলামত জব্দ করা,আলামত উদ্ধার করা,আসামীকে খাওয়ানো, আসামীর জবানবন্দি গ্রহণ, আসামীকে নিয়ে অভিযান, দফায় দফায় আসামী ও ভিকটিম পক্ষের লোকজনের সাথে কথোপকথন, বার বার অফিসারদের নিকট থেকে সঠিক decision নেওয়া,আসামীর ছবি তোলা,আসামী চালান প্রস্তুত করন এবং সবশেষে আসামীকে আদালতে প্রেরন শেষে দেখি ঘড়িতে সময় বিকাল ৩:৩০ ঘটিকা।
এরপর লাশের পালা। লাশ যাবে পটুয়াখালী। লাশবাহী গাড়ি আসল বিকাল ৪ :০০ ঘটিকায়।মামলার কপি সহ অন্যান্য কাগজপত্র দিয়ে সকল কাজ শেষ করে বাসায় এসে দেখি সময় বিকাল ৫ :০০ টা। আর তখন আমার ঈদের দিন শুরু হল। সারাদিন বাবা মা,বন্ধু বান্ধবী এবং ঘরনী ফোন দিয়েছে বেশ কয়েকবার শুধু ব্যস্ত আছি বলে রেখে দিয়েছি।বিকালে আসার পর ঘরনীর মনটা প্রথমে বেশ খারাপ মনে হল কিন্তু পরে সেই আমাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেস্টা করল। গতরাত থেকে ১ সেকেন্ডেও ঘুমাতে না পারায় মেজাজ খিটখিটে ছিল। বেশি কথা না বলে গোসল শেষ করে বিছানায় গেলাম আর যখন উঠলাম তখন রাত ৯: ৩০।আর আমার এভাবেই কাটল ২০২০ সালের ঈদুল ফিতরের দিনটি। আর এটাতো একটা পুলিশের ঈদের দিনের চিত্র। এরকম হাজার হাজার পুলিশ প্রতিবছর এভাবেই কাটায় ঈদের দিনগুলি। ( ফতুল্লা থানার এস আই মামুন মিয়ার ফেইসবুক থেকে সংগৃহিত)
Leave a Reply